Apps

Picture

কালীগঞ্জ থানা

অবস্থানঃ

কালীগঞ্জে অবস্থান- পূর্বে ঘোড়াশাল শীতলক্ষ্যা নদী, পশ্চিমে-টঙ্গী,উত্তরে কাপাসিয়া , দক্ষিণে রূপগঞ্জ থানা ।

রাজধানী শহর সংলগ্ন টংগী শিল্প অঞ্চলের পূর্বে ২০ কিঃমিঃ দূরে ঐতিহ্যবাহী মসলিন কটন মিল ও তাঁত সমৃদ্ধ ছায়া-ঢাকা জনপদ কালীগঞ্জ উপজেলা। কালীগঞ্জ উপজেলার অবস্থান ২৩°৫২৩' হতে ২৪°২' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°২৮' হতে ৯০°৩৯' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। গাজীপুর জেলার মোট ভূমির শতকরা ১০.৫৩ ভাগ নিয়ে সর্ব ক্ষুদ্র উপজেলা কালীগঞ্জ। ২১৭.৩৪ বর্গ কিঃমিঃ আয়তন বিশিষ্ট এ উপজেলার উত্তরে কাপাসিয়া উপজেলা, দক্ষিণে রূপগঞ্জ উপজেলা ও পলাশ উপজেলা,পূর্বে পলাশ উপজেলা,পশ্চিমে রূপগঞ্জ উপজেলাগাজীপুর সদর উপজেলা ও শ্রীপুর উপজেলা। পূর্ব-দক্ষিণে শীতলক্ষ্যা নদী আর পশ্চিমে বালু নদীর অবস্থান উপজেলার মনোরম আবহাওয়া ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রশাসনিক এলাকাঃ

এ উপজেলায় ১ টি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে।

ইতিহাসঃ

ইতিহাস থেকে জানা যায়, নদী সংলগ্ন বাণিজ্য কেন্দ্র সাধারণত ‘‘গঞ্জ’’ নামে পরিচিত ছিল। আর শক্তি সাধনার পীঠস্থান বঙ্গভূমি অবহমান কাল ধরেই শক্তিদেবী কালীর নামের সাথে যুক্ত করেছে অসংখ্য জনপদকে। স্থানের নামকরণের এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে কালীগঞ্জের নামকরণের যথার্থতা প্রতিপন্ন হয়। কেননা কালীগঞ্জ সদরে শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী ঐতিহাসিক হাট ও কালীমন্দির আজও সেই তথ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। অবশ্য এ সম্পর্কে ভিন্নমতও প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করে কালীগঞ্জের নামকরণ হয়েছে ভাওয়াল পরগণার প্রতাপশালী সামন্ত রাজা কালীনারায়ণ রায়ের নামানুসারে। প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্বূক্ত জনবসতি এই অঞ্চলে সুপ্রাচীন কাল থেকেই ছিল তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক বিজিত ও বিতাড়িত লক্ষণ সেন ও তার বংশধররা দীর্ঘ দিন পূর্ববঙ্গে রাজত্ব করেছিল। এ সময় অত্র অঞ্চলের অধিকাংশ জনগণ ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পরে বাংলায় মুসলিম রাজত্বকালে গাজীপুর অনেকগুলো চেদি রাজ্যে বিভক্ত হয়। কালীগঞ্জ ছিল স্বাধীন সামন্ত রাজ্যের রাজা খাইডা ডোসকার অধীনে। এই চেদি রাজ্যের বৌদ্ধ ধর্মামলম্বী কিছু লোক পাওয়া যায় যারা চন্ডাল উপজাতি নামে পরিচিত। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মিঃ ওয়াইজ নগরী ও পার্শ্ববর্ত্বী এলাকায় একটি পরিসংখ্যান চালিয়ে পাঁচ হাজার চন্ডালের সন্ধান পেয়েছিলেন। শেষ সামন্ত শাসন রানী ভবানীকে পরাজিত করে পালোয়ান গাজী সমগ্র গাজীপুরে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তারই পুত্র কারফরমা শাহ গাজী অত্র এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন এবং ইসলাম ধর্ম দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করে। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী এলাকায় খ্রীষ্ট ধর্ম প্রচারে সুৃচনা হয়। বর্তমানে দেশের উলে­খযোগ্য সংখ্যক খ্রীষ্টান কালীগঞ্জ এলাকায় বাস করে। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্ঠান জনগোষ্টীর বাইরেও এই উপজেলায় কিছু আদিবাসী যেমন নিষাদ, ডোম, সাওতাল, কোচ, রাজবংশী, মান্দী সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ মিলত যাদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এছাড়াও পূবাইল ব্রিজের নিচে নৌকায় বসকাসকারী একশ্রেণীর বেদে সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব লক্ষণীয়, যারা মুসলমান সম্প্রদায়ভূক্ত অথচ জাতিগত বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে আদিবাসী[২]

জনসংখ্যার উপাত্তঃ

  • (ক) মোট জনসংখ্যাঃ ২,৩৯,৬৬০ জন, পুরুষ- ১,২২,৮৪০ জন, মহিলা- ১,১৬,৮২০ জন।
  • (খ) ধর্ম ভিত্তিক জনসংখ্যাঃ মুসলিম -১,৯৫,৭৬৪, হিন্দু- ২৭,৯৭০ জন, খ্রিষ্টান- ১৫,৬৯১ জন, অন্যান্য- ১৩২ জন।
  • (গ) মোট খানার সংখ্যা- ৪৭,৮৪১ জন্ম হারঃ ২.১৩% মোট ভোটার সংখ্যাঃ ১,৫৫,০৭০ জন, পুরুষ- ৭৮,৯৪১, মহিলা- ৭৬,১২৯ জন।
 
Copyright © 2022 Gazipur,Superintendent of police. Developed by Momtaj Trading(Pvt.) Ltd.